পঞ্চাশতম অধ্যায় — মামাতো ভাই ক্বিন চ্য়ে

কনিষ্ঠ প্রভুর ছোট বোনকে কে সাহস করে বিরক্ত করবে? জলের বাইরে ফেলে রাখা মাছের মতো 3474শব্দ 2026-02-09 12:38:56

বিকেলের আলোয়, ভোজনের পরে, ইউয়েলিংজুন আবার ছিংফেংকে পাঠিয়ে দিলেন লিয়ান্যুয়েকে খবর দিতে—দুপুরে খালা দেখতে যাবেন, নিজেকে প্রস্তুত করে কাউকে খবর দিতে বললেন। লিয়ান্যুয়ে ব্লানশুইয়ের মতামত জানতে চাইলেন, দেখলেন সে যেতে চায় না, তাই আর জোর করলেন না। আদতে, লিয়ান্যুয়ের পরিকল্পনাই ছিল নিজেই আগে গিয়ে পরিস্থিতি বুঝে নেওয়া, তাই সঙ্গে নিলেন শুধু জিজু-কে।

দরজার সামনে দাদার সঙ্গে দেখা হল। এবার কিছুতেই রথে চড়বেন না বলে স্থির করলেন; আসলে ইউয়ে পরিবারের এই বাসভবনটি কিন পরিবারের বাড়ি থেকে কেবল দুটি গলিপথ দূরে। ইউয়েলিংজুনও তাঁর সঙ্গে পায়ে হেঁটে চললেন। কয়েকজন মিলে কিন পরিবারের প্রধান ফটকে পৌঁছালেন। অনুমান করা যায়, খালা বিশেষভাবে বলে রেখেছিলেন, ছোটো চাকরটি সরাসরি তাদের বাড়ির ভেতরে নিয়ে গেল।

লিয়ান্যুয়ের খালু হলেন হেলুও প্রদেশের শাসক। অন্দরসজ্জা ছিল নিখুঁত, তবু লিয়ান্যুয়ের এখন সে সব দেখার সময় নেই; তাঁর মাথায় কেবল ঘুরছে, পরে কীভাবে পরিস্থিতি সামলাবেন। ভাবতে ভাবতে কখন যে বিশাল হলঘরে ঢুকে পড়েছেন, খেয়ালই করেননি। শেষমেশ জিজু পেছন থেকে কাতুপি দিয়ে সচেতন করল তাঁকে। চারপাশে তাকিয়ে দেখলেন, ঘরে উপস্থিত সকলে তাঁর দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। পাশে দাঁড়ানো দাসীরা মুখে হাসি চেপে রাখার চেষ্টা করছে। উচ্চাসনে বসা, পঞ্চাশ ছাড়িয়ে যাওয়া এক রূপসী মহিলা স্নেহভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন তাঁর দিকে। অথচ লিয়ান্যুয়ে বুঝতেই পারলেন না, ঠিক কী হয়েছে। কেবল বিব্রত মুখে দাঁড়িয়ে রইলেন। মনেই পড়ল, দ্বিতীয় দাদা থাকলে নিশ্চয়ই ভালো হতো।

কিন্তু বাস্তবতা—মেংছুছেন এখানে নেই। তাই, লিয়ান্যুয়ে শুধু মনে মনে ভাবলেন। এই খালা, যদিও খুব বেশি দেখা হয়নি, তবু যতবার দেখা হয়েছে, বরাবরই স্নেহ দেখিয়েছেন। এখনো মুখভরা স্নেহ, একটুও অভিযোগ নেই।

‘‘কি ব্যাপার, চাঁদপাখি, আমাকে চিনতে পারছ না নাকি?’’ রূপসী মহিলা স্নেহভরা রাগে বললেন। তাঁর কণ্ঠের মাধুর্য বুঝতে লিয়ান্যুয়ের কোনো অসুবিধে হয় না। সেও স্নেহে বলল, ‘‘না তো, আমি কখনও সাহস পাই?’’

খালা তাঁকে হাতে ডাকলেন, ‘‘এসো, আদরের মেয়ে, আমার কাছে এসো।’’

লিয়ান্যুয়ে নম্রভাবে এগিয়ে গেলেন, তাঁর হাত খালার দুই হাতে শক্ত করে ধরা। লিয়ান্যুয়ে বুঝলেন, অন্তত তিন থেকে চারবার খালা তাঁকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখলেন, তারপর বললেন, ‘‘হুম! আমি তো বলেছিলাম, বড় হলে অপূর্ব সুন্দরী হবে, দেখো তাই-ই হল!’’

‘‘মা ঠিকই বলেছেন, না-কি! এমন রূপ, অতুলনীয়,’’ পাশ থেকে কেউ ভক্তির সাথে বলল।

তৎক্ষণাৎ খালার স্নেহময় চোখে এক পশলা শীতলতা ছড়িয়ে পড়ল। তিনি পাশের তরুণীটির দিকে কড়া দৃষ্টিতে তাকিয়ে ধমকালেন, ‘‘বড়রা কথা বলছে, তুমি কেন কথা বলছ? এত বছরেও শিষ্টাচার শেখো নি।’’

লিয়ান্যুয়ে তাকিয়ে দেখলেন, পাশে যে তরুণী দাঁড়িয়ে, সে বেশ সুদর্শনা, বছর কুড়ি পেরিয়েছে, সাজপোশাকেও দাসী মনে হয় না। তবু তার ভীতু ভাব দেখে লিয়ান্যুয়ের মনেও একটু কষ্ট হল। সে কে? কেন খালা এত অপছন্দ করেন, সবার সামনে ধমকে উঠলেন?

‘‘মা, এত বড়ো ব্যাপার কেন বানাচ্ছেন, ছিংরু তো শুধু মামাতো বোনকে একটু প্রশংসাই করল।’’

এই কথা বলা যুবককে লিয়ান্যুয়ে চিনতে পেরেছিলেন। এ তো সেই মামাতো ভাই কিন ছ্য। যে কিনা ব্লানজিয়ের হৃদয়ে অগণিত ক্ষত তৈরি করেছিল। এখন যাকে সে এত আগলে আছে, সে-ই তো সেই মেয়েটি, যে আচমকা এসে ব্লানজিয়ের থেকে ভাইকে ছিনিয়ে নিয়েছিল।

লিয়ান্যুয়ে তার দিকে কুৎসিত দৃষ্টিতে তাকালেন। বাইরে থেকে দেখে শান্ত, তবে যিনি তাঁর আপনজনকে আঘাত করেছেন, তাঁকে কোনোদিন ক্ষমা করবেন না। যাই হোক না কেন, আজ যখন দেখা হয়েছে, তাকে ছেড়ে দেবেন না।

লিয়ান্যুয়ে চোখের শীতলতা আড়াল করে কৌতূহলের ছলে খালাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘‘খালা, উনি আবার কে? চিনি নাকি?’’

ইয়ুয়ে শিরুর মুখে বিরক্তির ছাপ মিলিয়ে গিয়ে ফের স্নেহে রূপ নিল, ‘‘আর কে-ই বা হবে, তোমার সে গোঁয়াড় মামাতো ভাই যে নিয়ে এসেছে।’’

তারপর ছেলের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘‘আমি কি ওকে শাসন করতে তোমার অনুমতি নিতে আসি?’’

লিয়ান্যুয়ে এমনভাবে বিস্মিত হলেন, ‘‘ওহ! মনে পড়েছে, এ তো সেই মেয়ে, যে একদিন রাস্তায় পিতৃবিয়োগে দাসত্ব বেচছিল, মামাতো ভাই এক টুকরো রূপা দিলেন, তারপর গায়ে পড়ে ইউয়ে পরিবারে ঢুকে পড়ল, কষ্টের মুখোশ পরে ভাইয়ের সহানুভূতি আদায় করে শেষমেশ ভাইয়ের বিছানায় পৌঁছল।’’

লিয়ান্যুয়ের কথাগুলো সংক্ষিপ্ত, কিন্তু সেই দিনের ঘটনাকে চরম অপমানজনকভাবে উন্মোচিত করল। পাশে থাকা কিন পরিবারের চাকররা চোখ নামিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। ছিংরু নামে ডাকা তরুণীটি এতটাই অপমানিত হয়ে পড়ল, পা কেঁপে প্রায় পড়েই যাচ্ছিল। কিন ছ্য তাকে আঁকড়ে ধরে ফেলল।

এই দৃশ্য, লিয়ান্যুয়ের চোখে বেজায় খচখচে লাগল। কিন ছ্য-র দিকেও তাঁর দৃষ্টি কঠোর হয়ে উঠল।

কিন ছ্য বুকে আগলে রাখা মেয়েটির অবস্থা দেখে, অখুশিতে লিয়ান্যুয়ের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘‘মামাতো বোন, ছিংরু যেমনই হোক, সে তোমার মামাতো ভাবি, তুমি এভাবে কথা বলবে কেন?’’

লিয়ান্যুয়ে চায়ের পেয়ালা নিয়ে থাকা খালার দিকে তাকালেন, দেখলেন তিনি বাধা দিচ্ছেন না। তাই বিদ্রুপের হাসি হেসে বললেন, ‘‘ভাবি? আমি কখন ওকে ভাবি বলে মেনে নিয়েছি? ওর মত ছিন্নভিন্ন মেয়ে আমার মত ইউয়ে লিয়ান্যুয়ের ভাবি হওয়ার যোগ্যতাই কোথায়!’’

‘‘সে আমার স্ত্রী। আমি তোমার মামাতো ভাই। ছিংরু মানেই তোমার ভাবি,’’ কিন ছ্য ভালো করেই বুঝতে পারছিল, তার স্ত্রী কাঁপছে, তাই আরো শক্ত করে ধরে বলল।

‘‘মামাতো ভাই, তুমি বিয়ে করার সেই বছর থেকেই আমার সেই ভদ্র, কোমল কিন ছ্য ভাইটি আমার কাছে নেই। বলো তো, তুমি হঠাৎ কোথা থেকে উদয় হলে?’’ লিয়ান্যুয়ের প্রতিটি কথা ছিল কাঁটার মত।

ইয়ুয়ে শিরু চায়ের ঢাকনা নামাতে নামাতে থেমে গেলেন, কিন্তু দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে ফের লিয়ান্যুয়ের দুষ্টুমি বরদাস্ত করলেন।

‘‘চাঁদপাখি, বাড়াবাড়ি কোরো না!’’ প্রথম থেকে নীরব থাকা ইউয়েলিংজুন এবার গম্ভীর মুখে ধমকালেন।

তবে লিয়ান্যুয়ে জানতেন, ভাইয়ের সেই গম্ভীর রাগ তাদের জন্য নয়; বরং কিন ছ্য এবং তার স্ত্রীর প্রতি।

লিয়ান্যুয়ে ভুরু তুলে বিরক্তি প্রকাশ করলেন, ‘‘দাদা, আমি ভুল কী বললাম? আমি যে কিন ছ্য মামাতো ভাইকে চিনি, তার মনে কেবল ব্লানজিয়ে থাকত,’’ লিয়ান্যুয়ে লক্ষ্য করলেন, ব্লানজিয়ের নাম শুনতেই কিন ছ্য কেঁপে উঠল, স্ত্রীর কোমরে দেয়া হাতও ঢিলে হয়ে গেল। হুম, এখন ব্লানজিয়ের কথা মনে পড়ল? ‘‘সে রকম একজন, অন্য মেয়েকে বিয়ে করবে কেন?’’

সবসময় আড়াল খোঁজা, দুর্বল ছিংরু এবার নিজেই বলল, ‘‘ব্লানজিয়ে ভালো আছেন তো?’’

তাহলে, লিয়ান্যুয়ের মনে জমে থাকা রোষ আর চাপা রইল না। চোখে প্রকাশ্য ঘৃণা নিয়ে গর্জে উঠলেন, ‘‘তুইও ব্লানজিয়ে ডাকতে সাহস পাস! তুই কোন সাহসে?’’

‘‘ইউয়ে লিয়ান্যুয়ে!’’

‘‘চাঁদপাখি!’’

দুই জনের ধমক, তবে কিন ছ্য-র কণ্ঠে ছিল উত্তাপ, ইউয়েলিংজুন কেবল দেখনদারি।

এবার লিয়ান্যুয়ে সম্পূর্ণভাবে কিন ছ্য-কে ছিংরুর পক্ষে দেখে আর একটুও নম্রতা দেখালেন না, ‘‘কেন, মামাতো ভাই ভুলে গেলে, ও তো তোমার কাছে আসার জন্য কিন পরিবারে দাসী হয়েছিল। পরে ব্লানজিয়ে ওর দাসত্বের দলিল ছিঁড়ে ফেললেও, সত্যিটা তো রয়ে গেছে। আমাকে একজন চাকরকে ভাবি বলার কথা বলছ? স্বপ্নেও সম্ভব না! আমি পারব না!’’

লিয়ান্যুয়ে দেখলেন, ‘‘নিচু চাকর’’ কথায় ছিংরু ঠোঁট কামড়ে আছে আর কিন ছ্য-র মুখ রক্তিম হয়ে উঠেছে। মনে অদ্ভুত তৃপ্তি পেলেন।

‘‘চাঁদপাখির রাগ কি পড়ে গেল?’’ এবার ইয়ুয়ে শিরু মুখ খুললেন, একটুও রাগ না দেখিয়ে, বরং দীর্ঘক্ষণ ঠোঁটে ধরা চায়ের পেয়ালাটা লিয়ান্যুয়ের মুখে এগিয়ে দিয়ে হাসলেন, ‘‘এসো, এক কাপ চা খাও, কণ্ঠ সজীব করো, অকারণে অযোগ্য কারো জন্য শরীর নষ্ট করবে কেন।’’

লিয়ান্যুয়ে আর কিছু না বলে খালার হাত থেকে চা পান করলেন। সত্যি, এতক্ষণ কথা বলার পর গলা শুকিয়ে গিয়েছিল। মিষ্টি স্বরে বললেন, ‘‘ধন্যবাদ খালা!’’ একটু আগের ঔদ্ধত্য আর নেই।

‘‘তুমি তো অনেক বেশি ভদ্র হয়ে গেছ আমার সঙ্গে!’’ ইয়ুয়ে শিরু সামান্য অসন্তোষ প্রকাশ করলেন, কিন্তু শোনা যায়, তার মধ্যে আদরই বেশি। ‘‘যখন দাঁড়াতেই পারছ না, তখন এখানে থেকে কী হবে? অপমানেরও একটা সীমা থাকা উচিত,’’ সেই একই সুর, তবে এবার শীতলতা স্পষ্ট, এমনকি চোখও এক মুহূর্তের জন্য লিয়ান্যুয়ে ছাড়লেন না।

ছিংরু শুনে তড়িঘড়ি কিন ছ্য-র বাহু ছেড়ে বেরিয়ে গেল, মাথা নিচু করে বলল, ‘‘বউমা বিদায় নিচ্ছে।’’ কিন্তু শাশুড়ি কোনো উত্তর দিলেন না। বাধ্য হয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু প্রথম পদক্ষেপেই হোঁচট খেয়ে আবার কিন ছ্য-র গায়ে পড়ে গেল।

কিন ছ্য একটু ইতস্তত করলেন, ‘‘আমি বরং ওকে ফিরিয়ে নিয়ে যাই।’’

ইয়ুয়ে শিরু কোনো উত্তর দিলেন না, এমন ভাব করলেন যেন কিছুই শোনেননি।

কিন ছ্য দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে, শেষ পর্যন্ত ছিংরুকে নিয়ে বেরিয়ে গেলেন।

দুজনের ছায়া দরজা পেরিয়ে অদৃশ্য হতেই, ইয়ুয়ে শিরু বিরক্তি চেপে বললেন, ‘‘একেবারে অবাধ্য ছেলে।’’

লিয়ান্যুয়ে খালার ভ্রু-কুঞ্চিত মুখ দেখে বুঝলেন, তিনি এখনও ক্ষুব্ধ। ‘‘খালা...’’

ইয়ুয়ে শিরু লিয়ান্যুয়ে আর ইউয়েলিংজুনের দিকে তাকিয়ে, শেষ পর্যন্ত ছেলের পক্ষ নিয়ে বললেন, ‘‘তোমরা তোমাদের মামাতো ভাইকে দোষ দিও না, এত বছর একসঙ্গে থেকেছে, ও মেয়েটিও আবার বড়ো কৌশলী।’’

খালা এত বললে, লিয়ান্যুয়ে শুধু মাথা নাড়লেন, জিজ্ঞাসা করলেন, ‘‘তাহলে মামাতো ভাই বুঝতে পারেন না?’’

ইয়ুয়ে শিরু দীর্ঘশ্বাস ফেললেন, ‘‘বুঝুক বা না-বুঝুক, বিশ্বাস করতে চায় না।’’

লিয়ান্যুয়ে বিস্ময়ে দাদার দিকে তাকালেন। এতদিন তো জানতেন, মামাতো ভাই বাধ্য হয়েই বিয়ে করেছিলেন। এখন খালার কথায় তো মনে হচ্ছে তিনি সত্যিই ভালোবেসে ফেলেছেন। একটু আগের উদ্বেগও মিথ্যা ছিল না।

ইয়ুয়েলিংজুনের মুখ এমনিতেই গম্ভীর, এবার আরো বেশি অন্ধকার।

‘‘ঠিক আছে, ব্লানশুই কেমন আছে? এ ক’ বছরে দেখা হয়নি?’’ খালার কণ্ঠ আবার পাশে শোনা গেল।

লিয়ান্যুয়ে দৃষ্টি ফেরালেন, ‘‘এসেছিল, আসার আগে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, হয়তো মামাতো ভাইয়ের মুখোমুখি হতে চায়নি, তাই আসেনি। আমাকে বিশেষভাবে বলেছে, খালার খোঁজ নিতে।’’

‘‘আহা, এই মেয়ে...’’ লিয়ান্যুয়ে বুঝতে পারলেন, খালা সত্যিই কষ্ট পাচ্ছেন, ‘‘এত বছর কেটে গেল, এখনো ভুলতে পারল না। সেই সময়ে যদি...’’

ইয়ুয়ে শিরু কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে আবার দীর্ঘশ্বাস ফেললেন, ‘‘শেষ পর্যন্ত ওর সঙ্গে আমার ভাগ্য ছিল না।’’

খালার ইঙ্গিত লিয়ান্যুয়ে বুঝতে পারলেন। তখন লিয়ান্যুয়ের ঠাকুমা ছিয়েন পরিবারের জন্মদিনে খালু-খালা এসেছিলেন। খালা ব্লানশুই আর কিন ছ্য-র ব্যাপার জেনে মহা খুশি হয়েছিলেন। ব্লানশুইকে ভবিষ্যৎ পুত্রবধূ হিসেবে ধরে নিয়েছিলেন। তখন ছিংরু নিয়ে গোলমাল শুরু হলে, খালা নিজে ওকে ব্যবস্থা করে দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ব্লানশুই নরম হয়ে তাঁকে বাধা দিয়েছিল।

খালা গোপনে ব্যাপারটি মীমাংসা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু কে জানে কে আবার কড়া নিয়মনিষ্ঠ খালুর কানে বিষয়টি পৌঁছে দিল। তাঁর কাছে, কিন ছ্য যখন মেয়েটির সতীত্ব নষ্ট করেছে, তখন ওকে বিয়ে করতেই হবে। ছিংরু সুযোগ পেয়ে গেল। খালা শেষ পর্যন্ত খালুর সঙ্গে পেরে ওঠেননি, দু’জনের মধ্যে দারুণ ঝগড়া হয়েছিল। কিন ছ্যও বুঝতে পেরে, বাবার ভয়ে প্রতিবাদ করতে সাহস পায়নি। আর ব্লানজিয়ের হৃদয় ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল।

সম্ভবত ব্লানজিয়ের কারণেই খালা ছিংরুর সঙ্গে এমন আচরণ করেন।